Wednesday, September 3, 2014

Kathopakathan # 37 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
ভালবাসা, সেও আজ হয়ে গেছে ষড়যন্ত্রময়।
নন্দিনী! এসব কথা তোমার কখনো মনে হয়?
চক্রান্তের মত যেন, সারা গায়ে অপরাধপ্রবনতা মেখে 
একটি যুবক আজ যুবতীর কাছাকাছি এসে 
সাদা রুমালের গায়ে ফুলতোলা শেখে।
যেন এই কাছে আসা সমাজের পক্ষে খুব বিপজ্জনক।
যেন ওরা আগ্নেয়াস্ত্র পেয়ে গেছে মল্লিকবাগানে 
যেন ওরা হাইজ্যাকের নথিপত্র জানে 
এসেছে বারুদ ভরে গোপন কামানে।

একটি যুবক যদি প্রতিদিন পাখি-রং বিকেলবেলায় 
তার কোনো নায়িকার হাতে রাখে হাত 
যেন এই কলকাতার মারাত্মক ক্ষতি করে দেবে বজ্রপাত।
কলকাতায় জঙ্গল গজাবে 
কলকাতাকে সাপে-খোপে খাবে।
এই সব ফিসফাস, চারিদিকে অবিরল এই সব 
ছুঁচোর কেত্তন,
একটি যুবক এসে যুবতীর কাছাকাছি বসেছে যখন।

নন্দিনী! তোমার মনে পড়ে?
মামাশ্বশুরের মত বিচক্ষন মুখভঙ্গি করে 
একবার এক বুড়ো হাড় এসে প্রশ্ন করেছিল,
মেয়েটির সঙ্গে কেন এত মাখামাখি
মেয়েটির মধ্যে কোন গুপ্তধন আছে-টাছে নাকি?
লুকনো এয়ারপোর্ট আছে?
জাল-নোট ছাপাবার কারখানা আছে?
আন্তর্জাতিক কোন পাকচক্র আছে?
তাহলে কিসের জন্যে ছুঁচ ও সুতোর মত 
শীত-গ্রীষ্ম এত কাছে কাছে?

Kathopakathan # 36 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
তুমিই আমার ধ্বংস হবে তা জানলে 
এমন করে কি ভাসাতাম ডিঙ্গি নৌকো?
ভাসাতাম?
তুমি চলে যাবে সমুদ্রে আগে বলনি 
তাহলে কি গায়ে মাখাতাম ঝড়-ঝঞ্ঝা?
মাখাতাম?
নুড়িতে-পাথরে নূপুর বাজিয়ে ছোট্ট 
জলরেখা ছিলে দুই হাত দিয়ে ধরেছি।
ধরা দিয়েছ।
এখন দুকুল ভরেছে প্রবাহে প্লাবনে 
উঁচু মাস্তুলে জাহাজ এসেছে ডাকতে।
ওকে সাড়া দাও।।

Kathopakathan # 35 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
লোকে বলে শুনি সেলায়ে তোমার পাকা হাত 
ছুঁচ দিয়ে লেখো কবিতা।

নন্দিনী-
গোয়েন্দা নাকি? আমার যা কিছু লুকানো 
জানতে হবে কি সবই তা?

শুভঙ্কর-
তর্ক কোরো না জুড়ে দেবে কিনা এখুনিই 
হৃৎপিন্ডের ক্ষতটা।

নন্দিনী-
দিতে পারি তবে মজুরি পড়বে বিস্তর 
জোগাতে পারবে অতটা?

শুভঙ্কর-
কাজ যদি হয় নিখুঁত,পাবেই মজুরী,
ভেবেছো পালাবো গর্তে?

নন্দিনী-
হৃৎপিন্ডের ভিতরে থাকে যে ঝর্ণা 
দিতে হবে স্নান করতে।

Kathopakathan # 34 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
বল তো কত বয়স হল তার?

নন্দিনী-

কার?

শুভঙ্কর-

যার মাথাভর্তি সবুজ দেবদারু চুল 
যার টলমলে পা কেবল ভুল পথের কাঁটার উপরে 
যার সমস্ত কথাই অস্পষ্ট, সন্ত্রাসবাদীদের মত সংকেতময় এবং বিস্ফোরক 
যে কেবল হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় এমন বাগানে 
যেখানে ফুলের গায়ে হাত ছোঁয়ালেই অট্টহাসির বিদ্যুৎ 
যেখানে লতাগুল্মের আড়ালে পিছলে পড়ার গোলাপী গহ্বর 
আর ফুসলিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার খর জলস্রোত।
বল তো কত বয়স হল তার?

নন্দিনী-

তিন বছর।

শুভঙ্কর-

তাহলে মনে আছে তিন বছর আগে ঠিক এইখানে 
ঠিক এই রকম পাঁশুটে সন্ধ্যার সাড়ে পাঁচটায় 
এইরকম আরশোলা রঙের ছেঁড়া পর্দার আড়ালে 
তোমার আর আমার যৌথ উল্লাসের ঔরসে জন্ম হয়েছিল তার 
তোমার প্রথম চিঠিতে তুমি যার নাম দিয়েছিলে, অসহ্য সুখ 
আমার প্রথম চিঠিতে আমি যার নাম দিয়েছিলাম, নবজন্ম।