Sunday, June 26, 2016

Kathopakathan # 07 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

অনেক আগে তোকে একটা পাখির খবর শুনিয়েছিলুম।
তারপর অনেক দিন তুই বেপাত্তা
আর আমিও পাখিটাকে নিয়ে হিমশিম।
দিনরাত তার একটাই বায়না 
চাইলেই আমাকে হতে হবে তার উড়বার আকাশ।
জলে-জঙ্গলে, করে-কব্জায় 
চব্বিশ প্রহরে আমার ছত্রিশ রকমের কাজ।
সব ছেড়ে-ছুড়ে কখন ওর চোখের মাপের আকাশ হই বলতো?
না হলেই সারা গায়ে ডানা-ঝাপটানির চাবুক।
একদিন আয় না,
এলেই দেখতে পাবি গা-ভর্তি লাল পালক, নীল পালক।

Kathopakathan # 06 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

কম নয়, প্রায় বছর পঞ্চাশেক আমরা এই পৃথিবীতে, পৃথিবীতে কতজন আছি ভাবতে গেলে মাত্র অল্প কজনের মুখ, যেন মাত্র শ দেড়েক, আসলে গোনা-গুনতি করি শুধু সেই কজনকে যাদের বুকের ব্যান্ডেজে লাল ছোপ, আর যারা সারা রাত লম্বা আলোকস্তম্ভগুলোকে গিলে গিলে মাতাল, দৌড়তে চায় আকাশ ছিঁড়ে, যেন নক্ষত্রপুঞ্জে আড়াল হয়ে আছে জাহাজ চলাচলের সব চেয়ে শৌখিন এবং সম্ভ্রান্ত স্টেশনটা, আর এইমাত্র রাষ্ট্রবিরোধী গীটারে রক্ত-রোদের তার পরাতে গিয়ে নিহত হল যারা, এমনকি কিছু কিছু মৃত মানুষকেও আমরা গণনা করে ফেলি, ভেজানো ঘরের দরজা খুলেই দেখতে পাই চেয়ার-টেবিল, কাগজ, কলম, কাঠের আলমারি, পর্দা, পাপোষ জুড়ে বসে আছেন তাঁরা, এই শ দেড়েক মানুষের মধ্যে অবশ্য আরো কেউ কেউ থেকে যায় যারা মুকুটের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকে পড়ে মাটির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা এক টুকরো শিকড়ের দিকে, পাশা খেলতে বসে যারা পণ হিসেবে পাশে রেখে দেয় নিজেদের আপোষহীন হৃৎপিন্ড, আর যারা কিছুতেই সায় দেয়না শিকল-পোড়ানো চিতার আগুনে জল ঢালতে।
ভিয়েতনামের আকাশে যখন ফিনকি দিয়ে ওঠে আক্রমন এবং পাল্টা আক্রমনের ঝন্ঝনে হাওয়া, তখনই কেবল মনে পড়ে যায় আরো সব মানুষের মুখ, যখন হিরোশিমা পুড়তে থাকে তখন পাঁজরের ডানদিকে বাঁদিকে অসংখ্য মা বোন ভাই, আফ্রিকার কালো অরণ্যে শিকারী-বন্দুকের জবাবে যখন গমগম বেজে ওঠে মরণাপন্নের চরম দুন্দুভি, লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় আমাদের আশা-আকাঙ্খার ঘর দোর দরজা দালান ছাদ সিঁড়ি লম্বা করিডোর। অমিতাভ, তোর কখনো মনে হয়েছে, আমাদের হৃদয়ের মাপ নিয়েই এই পৃথিবী?

Saturday, June 25, 2016

Kathopakathan # 05 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

যার কপালে যা আছে হবেই।
আবহাওয়া আপিস বলেছিল আকাশ থাকবে 
রাজহাঁসের ধোয়া পালক।
অথচ দুপুর হতে না হতেই জাফরান রঙের আকাশটার গায়ে 
ভিজে ন্যাতা বুলিয়ে আচমকা ঝড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল সে 
কোলের উপর শুইয়ে বিদ্যুতের ছুরিতে 
ত্বরিত এক অস্ত্রোপচার।
যখন জ্ঞান ফিরল, দেখি মাথাভর্তি কৃষ্ণচূড়ার ঝাড় 
আর শিয়র জুড়ে তার তাঁতের শাড়ির জড়িদার আঁচল। 

Kathopakathan # 04 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

একদিন তোকে বলেছিলুম না একটা সাংঘাতিক দৃশ্যের কথা, নিজের চোখে দেখা জাহাজডুবি, মাইরি, একটা ঢলঢলে যৌবনের জ্যান্ত জাহাজকে, ঢেউ-ফেউ কোথাও কিচ্ছু নেই, যেন সূর্য উঠছে, সহজ সরল, আড়াই লক্ষ বছরের একটা ঘুমন্ত আগুনে পাহাড়, এক ইঞ্চি, দু ইঞ্চি, সাত ইঞ্চি কুড়ি, ইঞ্চি, একশো, দুশো, কথা বলতে বলতে ভালোবাসা বাড়ে যে রকম, ভালোবাসা বাড়তে বাড়তে রক্ত মাংস যেমন জিরাফের মতো লম্বা, সেইভাবেই, শেষ কবে দুঃস্বপ্ন দেখেছিস তুই, শেষ কবে এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় হয়েছিস হাসপাতালের টেবিলে, উন্মাদ চাউনিতে আকাশ জুঁ পিও-র ঘোড়ার চাইতে তীব্র বেগে পালাচ্ছে পৃথিবীর উপর দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে, এই জাহাজডুবির কাছে সে-সব এমন কিছুই মারাত্মক নয়, বিশ্বাস করবি কিনা জানি না, ডুবোজাহাজটাকে বুকে জড়িয়ে, ভাঙতে ভাঙতে, গড়তে গড়তে, নদীর জল লজ্জায় লাল, আড়াই লক্ষ বছরের খিদেয় জেগে উঠে সে কখনো ঘুমোতে পারে শুধু চুম্বন আর আলিঙ্গনে?

Kathopakathan # 03 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

মেছোহাটার সেলুন থেকে এইমাত্র বেরিয়ে গেল যে লোকটা মাথা কামিয়ে 
তাকে চিনতে পারলি?
মনে পড়ছে লোকটার ঐ চুলগুলোকে কখনো মিছিলের পতাকা 
কখনো অগ্নিকোনের ঘনঘটাময় ঝড়ের স্বরলিপি ভেবে 
বিশ্বাসের ত্রিশূলে অন্ধকারের দরজা ভেঙে আমরা একদিন বেরিয়ে এসেছিলাম 
রাক্ষুসে হাওয়ায়।
চুল বেচে লোকটা এখন চলেছে ধোপার বাড়ির দিকে 
কাচতে দেবে গায়ের জামাটা।
জামা থেকে জবাকুসুমের রঙটা উঠে গেলেই 
মনে হচ্ছে সোনার ধানদুব্বো দিয়ে বরণ করবে কেউ।

Friday, June 24, 2016

Kathopakathan # 02 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

সাবানে হাত না ধুলে
সকালের আঁশটে গন্ধটা বিকেল পর্যন্ত।
মায়াকভস্কি,
তোর নিশ্চয় মনে আছে,
কারো সঙ্গে হ্যান্ডশেকের পরই
হাত ধুতেন সাবানে।
পকেটে সব সময়ই এক টুকরো সাবান।

চুল এলিয়ে বসে আছে সে
কেবল বদলে বদলে পরছে নতুন শাড়ি
গেলাস ফুরোলেই এগিয়ে দিচ্ছে
আরেক গেলাসের তৃষ্ণা।

আশ্চর্য এক সাবান।
সমস্ত আঁশটে গন্ধ
জামা-কাপড়ের
কিংবা ভাবনা-চিন্তায় যত রক্ত ছাপ
সব কিছুকে আদিম শুদ্ধতা
আদিতম ডমরুধ্বনির কাছে পৌঁছে দিতে
জলের সমুদ্রে খোদাই করে চলেছে
ফেনার উৎসব।

মায়াকভস্কি,
তোর নিশ্চয় মনে পড়বে
এলসা ত্রিয়োল-এর কাছে
সাবান চেয়েছিলেন কতবার।
তোর মনে হয় না ঠিক সময়ে
হাতে সাবানের টুকরো পেলে,
প্রতিপক্ষের করাত যতই হ্যাংলা হয়ে উঠুক না কেন
রক্তের খিদেয়,
আত্মহত্যা করা অসম্ভব ছিল
মায়াকভস্কির।

Thursday, June 23, 2016

Kathopakathan # 01 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

সেদিন পার্ক স্ট্রিটের বীয়ারের পর, বেশ জমেছিল কিন্তু, বন্ধ ছাতা বৃষ্টির ভিতরে এলে খুলে যায় যেমন, জলের তলায় বুদ্বুদের তোলপাড়, আরো একটু পড়লে আরো তলাকার কান্না-কষ্টগুলো হয়তো, কিন্তু কি করব বল, তেপান্তরে ঘর, আর এ শালার শহর দশটা বাজলেই কানা-খোঁড়া, বাড়ি ফিরতেই মনে পড়ল কথাটা, কথা নয় গল্প, আসলে উপন্যাস, february-র মাঝামাঝিতে শুরু, পতঙ্গের সঙ্গে আগুনের প্রথন সাক্ষাৎকার, মিল দেওয়া পয়ারের মতো বাতাসের ভিতরে দু-হাজার বছর আগেকার ভুলে যাওয়া বেলফুলের গন্ধ, নানা জন্মের স্মৃতি, শুধু স্মৃতির চুলে পাক ধরে না কখনো, বলব বলব করেও পাঁচ কথায়, আরেক দিন যদি বসিস, পার্ক স্ট্রিট বা অন্য কোথাও, তুই আমার বাঁ দিকের পেখমের নকশা দেখে যখন ঐ সব বলছিলি, শিকড়-বাকড়, বজ্র-বিদ্যুৎ, হাওয়ার ছাপ, সাপের জিভের ভিতর দিয়ে আসা-যাওয়ার সিঁড়ি, তখন বাঁদিকের পেখমটা মুখ লুকিয়ে, বড্ড লাজুক, নিকটতম ছাড়া কাউকেই দেখাবে না তার পালকের অগ্নিচিহ্নময় উল্লাস, কবে দেখা করবি জানাস।

Kathopakathan # 00 from Kathopakathan Vol. 2 by Purnendu Patri

পত্র- পত্রিকায় ছাপা হওয়ার সময় এ বইয়ের প্রায় সব কবিতারই শিরোনাম ছিল, 'অমিতাভর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথাবার্তা'। বেশি বাস্তব ঘেঁষা এই নামকরণ বিব্রত হওয়ার কারন ঘটিয়েছে বহুবার, প্রিয় পাঠকপাঠিকাদের আচমকা প্রশ্নে। প্রশ্ন একটাই, কে এই অমিতাভ? যে কোনো একটি জ্যান্ত অমিতাভর সংবাদ পেতে তারা ব্যগ্র। উত্তরের বদলে আমার মুখে মোনালিসা মার্কা হাসির পেখম ছড়াতে দেখে অতঃপর তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছেন রহস্যোদ্ধারে। যে পাঠক কবিতার ভক্ত, তার উত্তর- নিশ্চয় অমিতাভ দাশগুপ্ত? যে পাঠক সিরিয়াস সিনেমার অনুরাগী- আসানসোলের সিনেমা সমালোচক অমিতাভ চট্টোপাধ্যায় না কি? যাঁদের হাঁটা চলা আঁকা ছবির জগতে- শিল্পী অমিতাভ ব্যানার্জী? শান্তিনিকেতনের অমিতদা, খবরের কাগজের অমিতাভ চৌধুরীর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা দিনের। তাই কারো কারো চোখের আঙ্গুল ঘুরেছে দিকেও। তবে সবচেয়ে সাংঘাতিক আবিষ্কার ছিল জনৈক বন্ধু-পত্নীর। কদিন আগে 'দেশ'-এ বেরিয়েছে একটা কবিতা। অমিতাভ বচ্চনের অসুখ নিয়ে খবরের কাগজের প্ৰথম পাতাতেই ভাজা হচ্ছে মুখরোচক তেলেভাজা। মুখোমুখি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু-পত্নীটির প্রশ্ন, তোমার কবিতাটা কি অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে লেখা? কবিতা গুলো বই হয়ে বেরোলে বাড়তে পারে আরো বিড়ম্বনা, সে আশঙ্কাতেই এই নতুন নামকরণ। এ বইয়ে আমার কথোপকথন একাধিক বন্ধুর সঙ্গে, অমিতাভ যাদের প্রতীক। অবশ্য বেশ কয়েকটা কবিতার অমিতাভ, কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত।
এ বইয়ের অনেক কবিতাই কবিতা নয়, জার্নাল। আমাদের মনে সমাজের, রাজনীতির, এবং দিনযাপনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভার কতটা সইতে অথবা বইতে পারে কবিতা, তারই পরীক্ষা নিরীক্ষা।

Wednesday, June 22, 2016

Kathopakathan # 41 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
বৃক্ষের বল্কল দেখে মনে হয় যেন আমাদের 
কথোপকথনগুলো যাতে না হারায় 
আশ্চর্য হরফে লিখে রেখেছে উল্কির মত নিজেদের গায়ে।
পৃথিবীর বৃক্ষগুলো মানুষের গোপনীয়তম 
সমস্ত সংবাদ জানে, এমনকি তোমাকে যা কখনো বলিনি 
হৃদয়ের সেই সব তূর্যনাদ আর্তনাদও জানে।

নন্দিনী-
নভোমন্ডলের দিকে চেয়ে থেকে ঠিক এরকমই 
ভেবেছি আমিও। কোন গোপন আলমারি ঘেঁটে ঘুঁটে 
তোমাকে যে সব চিঠি লিখেছি, যা কখনো লিখিনি 
নক্ষত্র-অক্ষরে যেন ছাপিয়ে রেখেছে তার সব 
অভ্রকণা, অশ্রুকণাগুলি।

Kathopakathan # 40 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
ধরো কোনো একদিন তুমি খুব দূরে ভেসে চলে গেলে 
শুধু তার তোলপাড় ঢেউগুলো আজন্ম আমার 
বুকের সোনালী ফ্রেমে পেন্টিং এর মত রয়ে গেল।
এবং তা ধীরে ধীরে ধুলোয়, ধোঁয়ায়, কুয়াশায় 
পোকামাকড়ের সুখী বাসাবাড়ি হয়ে যায় যদি?

নন্দিনী-
ধরো কোনো একদিন যদি খুব দূরে ভেসে যাই 
আমারও সোনার কৌটো ভরা থাকবে প্রতিটি দিনের 
এইসব ঘন রঙে, বসন্তবাতাসে, বৃষ্টিজলে।
যখন যেমন খুশি ওয়াটার কালারের আঁকা ছবিগুলো 
অম্লান ধাতুর মত ক্রমশ উজ্জ্বল হবে সোহাগী রোদ্দুরে।

শুভঙ্কর-
তার মানে সত্যি চলে যাবে?

নন্দিনী-
তার মানে কখনো যাবো না।

Tuesday, June 21, 2016

Kathopakathan # 39 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
তোমাকে বাজাই 
সমুদ্র-শাঁখ তুমি।
গাছে ফুল আসে 
ফুলেরা কিশোরী হয়।
ডালপালাগুলো 
সবুজ পাতার খামে 
চিঠি লিখে লিখে 
প্রেম নিবেদন করে।
ফ্রক ছেড়ে শাড়ি পরে 
সমগ্র বনভূমি।
তোমাকে ভাসাই 
মেঘের নৌকো তুমি 
তুমি জানো লাল 
প্রবালের নীল দ্বীপ।
অমরাবতীর 
দরজায় এসে নামো,
খাট-পালঙ্ক 
পেতে দেয় জ্যোৎস্নারা।
বুড়ি চাঁদ এসে ঝাড়-লন্ঠন জ্বালে।
পৃথিবীর ফাটা গালে 
হেসে ওঠে পূর্ণিমা।

Kathopakathan # 38 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
নন্দিনী! আমার খুব ভয় করে, বড় ভয় করে।
কোন  একদিন বুঝি জ্বর হবে, দরজা-দালান ভাঙা জ্বর 
তুষারপাতের মত আগুনের ঢল নেমে এসে 
নিঃশব্দে দখল করে নেবে এই শরীরের অলিগলি শহর বন্দর।
বালিশের ওয়াড়ের ঘেরাটোপ ছিঁড়ে ফেলে তুলো 
এখন হয়েছে মেঘ, উড়ো হাঁস, সাদা কবুতর।
সেইভাবে জ্বর এসে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে কোন অন্য ভূমণ্ডলে 
নন্দিনী! আমার খুব ভয় করে, বড় ভয় করে।

নন্দিনী-
বাজে কথা বকে বকে কি যে সুখ পাও, শুভঙ্কর!
সত্যি বুঝি না।
কার জন্যে ছুরি নিয়ে খেলায় মেতেছ?
তুমি কি আমার মুখে রক্তদৃশ্য এঁকে দিতে চাও?

শুভঙ্কর-
ছুরি কই? ছুরি ছুঁড়ে দিয়েছি জঙ্গলে 
খাঁ খাঁ দুপুরের মত লম্বা ছুরি ছিল বটে কিছুদিন আগে।
তখন যে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল 
তখন যে যুদ্ধ-দাঙ্গা-লুটপাট-ডাকাতির সম্ভাবনা ছিল 
এখন ভীষণ এক ভয় ছাড়া অন্য কোন প্রতিপক্ষ নেই।
যুদ্ধ নেই, কামানের তোপ নেই, অসুখ-বিসুখ কিছু নেই 
ভয় ছাড়া অন্য কোন বীজাণুর মারাত্মক আক্রমণ নেই।

নন্দিনী-
আমার যা কিছু ছিল সবই তো দিয়েছি, শুভঙ্কর!
তোমার বাঘের থাবা তাও ভরে দিয়েছি খাবারে।
চাঁদোয়ার মত ঘন বৃক্ষ টাঙিয়ে দিয়েছি মাথার উপরে, ঠিক আকাশের মাপে মাপে বুনে।
তবুও তোমার এত ভয়?
তবুও কিসের এত ভয়?

শুভঙ্কর-
সেই ছেলেবেলা থেকে যা ছুঁয়েছি সব ভেঙে গেছে।
প্রকান্ড ইস্কুলবাড়ি কাচের চিমনির মত ঝড়ে ভেঙে গেল!
একান্নবর্তীর দীর্ঘ দালান-বারান্দা ছেঁড়া কাগজের কুচি হয়ে গেল।
কচি হাতে রুয়ে রুয়ে সাজিয়ে ছিলাম এক উৎফুল্ল বাগান 
কুরে কুরে খেয়ে গেছে লাল পিঁপড়ে, পোকা ও মাকড়।
একটা পতাকা ছিল, আকাশের অদ্বিতীয় সূর্যের মতন 
তর্কে ও বিতর্কে তাও সাতটা আটটা টুকরো হয়ে গেল।
গাঁয়ের নদীকে ছুঁয়ে কি ভুল করেছি
নদীর ব্রিজকে ছুঁয়ে কি ভুল করেছি 
কাগজ ও মুদ্রাযন্ত্র ছুঁয়ে আমি কি ভুল করেছি।
নন্দিনী!
তোমাকে যদি বাগান, পতাকা, ব্রীজ, কাগজের মতন হারাই?