পত্র- পত্রিকায় ছাপা হওয়ার সময় এ বইয়ের প্রায় সব কবিতারই শিরোনাম ছিল, 'অমিতাভর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথাবার্তা'। বেশি বাস্তব ঘেঁষা এই নামকরণ বিব্রত হওয়ার কারন ঘটিয়েছে বহুবার, প্রিয় পাঠকপাঠিকাদের আচমকা প্রশ্নে। প্রশ্ন একটাই, কে এই অমিতাভ? যে কোনো একটি জ্যান্ত অমিতাভর সংবাদ পেতে তারা ব্যগ্র। উত্তরের বদলে আমার মুখে মোনালিসা মার্কা হাসির পেখম ছড়াতে দেখে অতঃপর তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছেন রহস্যোদ্ধারে। যে পাঠক কবিতার ভক্ত, তার উত্তর- নিশ্চয় অমিতাভ দাশগুপ্ত? যে পাঠক সিরিয়াস সিনেমার অনুরাগী- আসানসোলের সিনেমা সমালোচক অমিতাভ চট্টোপাধ্যায় না কি? যাঁদের হাঁটা চলা আঁকা ছবির জগতে- শিল্পী অমিতাভ ব্যানার্জী? শান্তিনিকেতনের অমিতদা, খবরের কাগজের অমিতাভ চৌধুরীর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা দিনের। তাই কারো কারো চোখের আঙ্গুল ঘুরেছে দিকেও। তবে সবচেয়ে সাংঘাতিক আবিষ্কার ছিল জনৈক বন্ধু-পত্নীর। কদিন আগে 'দেশ'-এ বেরিয়েছে একটা কবিতা। অমিতাভ বচ্চনের অসুখ নিয়ে খবরের কাগজের প্ৰথম পাতাতেই ভাজা হচ্ছে মুখরোচক তেলেভাজা। মুখোমুখি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু-পত্নীটির প্রশ্ন, তোমার কবিতাটা কি অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে লেখা? কবিতা গুলো বই হয়ে বেরোলে বাড়তে পারে আরো বিড়ম্বনা, সে আশঙ্কাতেই এই নতুন নামকরণ। এ বইয়ে আমার কথোপকথন একাধিক বন্ধুর সঙ্গে, অমিতাভ যাদের প্রতীক। অবশ্য বেশ কয়েকটা কবিতার অমিতাভ, কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত।
এ বইয়ের অনেক কবিতাই কবিতা নয়, জার্নাল। আমাদের মনে সমাজের, রাজনীতির, এবং দিনযাপনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভার কতটা সইতে অথবা বইতে পারে কবিতা, তারই পরীক্ষা নিরীক্ষা।
এ বইয়ের অনেক কবিতাই কবিতা নয়, জার্নাল। আমাদের মনে সমাজের, রাজনীতির, এবং দিনযাপনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভার কতটা সইতে অথবা বইতে পারে কবিতা, তারই পরীক্ষা নিরীক্ষা।
No comments:
Post a Comment