Saturday, June 7, 2014

Kathopakathan # 33 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
খবর্দার! হাত সরিয়ে নাও।
ব্যাগে ভরে নাও টাকাগুলো।
আজ সমস্ত কিছুর দাম দেবো আমি।

নন্দিনী-
কি হচ্ছে কি শুভঙ্কর? কেন এমন পাগলামির ঢেউয়ে দুলছ?
এইজন্যই তোমার উপর রাগ হয় এমন।
মাঝে মাঝে অর্থমন্ত্রীদের মতো গোঁয়ার হয়ে ওঠো তুমি।
কাল কতবার বলেছিলুম, চলো উঠি, চলো উঠি।
আকাশ আলকাতরা হয়ে আসছে, চলো, উঠি।
এখুনি সেনাবাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়বে বৃষ্টি, চলো উঠি।
তুমি ঘাসের উপর বুড়ো বটগাছ হয়ে বসে রইলে।
কলকাতা ডুবল, তুমিও ডুবলে 
আমাকেও ডোবালে।
কেন আমার কথা শোনো না বল তো?
আমি কি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি 
যে সিংহাসনের হাতলে হাত রাখলেই হারিয়ে যাবে স্মৃতিহীন অন্ধকারে?
কলের জলের মতো 
ক্যালেন্ডারের তারিখের মতো 
বন্যার গায়ে গায়ে খরার মতো 
আমি তো তোমার সঙ্গেই আছি। এবং থাকবো।
তাহলে কেন আমার কথা শোনো না শুভঙ্কর?

Friday, June 6, 2014

Kathopakathan # 32 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
তোমার জন্য এনেছি যে উপহার 
বলতে পারবে নাম?
রামধনু? ধ্যেৎ, চাইলে কি কেউ তার 
ধরাছোঁয়া পায় না কি?
অভ্রের খনি? নীল পাহাড়ের চূড়ো?
আমি কি বিড়লা টাটা?
তোমার জন্যে এনেছি রক্ত খুঁড়ে 
চন্দন এক বাটি।

Kathopakathan # 31 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
যতক্ষন পাশে থাকো, যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি 
আমি যেন মেঘে জলে মেশা কোনো আত্মহারা পাখি।
বলতো কি পাখি?

শুভঙ্কর-
যতক্ষন পাশে থাকো, যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা 
উল্কার স্ফুলিঙ্গ দিয়ে অন্ধকারে দীর্ঘ ছবি আঁকা।
বলতো কি ছবি?

নন্দিনী-
যতক্ষন কথা বলো, হাসো ও ঝরাও ধারাজল 
বীজ থেকে জেগে ওঠে অফুরন্ত গাছ, বনতল।
বলতো কি গাছ?

শুভঙ্কর-
যতক্ষন পাশে থাকো ভূমিকম্প, সুখের সন্ত্রাস 
পৌঁছে যাই সেখানে, যেখানে বসন্ত বারোমাস।
বলতো কি দেশ?

Kathopakathan # 30 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
তুমি আমার সর্বনাশ করেছ শুভঙ্কর।
কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার। কিচ্ছু না।
জ্বলন্ত উনোনে ভিজে কয়লার ধোঁয়া আর শ্বাসকষ্ট 
ঘিরে ফেলেছে আমার দশদিগন্ত।
এখন বৃষ্টি নামলেই কানে আসে নদীর পাড় ভাঙার অকল্যাণ শব্দ 
এখন জ্যোৎস্না ফুটলেই দেখতে পাই 
অন্ধকার শশ্মানযাত্রীর মত ছুটে চলেছে মৃতদেহের খোঁজে।
কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার। কিচ্ছু না।
আগে আয়নার সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা সাজগোজ 
পাউডারে, সাবানে, সেন্টে, সুর্মায় 
নিজেকে যেন কেচে ফর্সা করে তোলার মত সুখ।
এখন প্রতিবিম্বের দিকে তাকালেই 
সমস্ত মুখ ভরে যায় গোলমরিচের মতো ব্রণে, বিস্বাদে, বিপন্নতায়।
এখন সমস্ত স্বপ্নই যেন বিকট মুখোশের হাসাহাসি 
দুঃস্বপ্নকে পার হওয়ার সমস্ত সাঁকো ভেঙে চুরমার।
কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার। কিচ্ছু না।

শুভঙ্কর-
তুমিও কি আমার সর্বনাশ করনি নন্দিনী?
আগে গোলমরিচের মতো এতটুকু ছিলাম আমি।
আমার এক ফোঁটা খাঁচাকে তুমিই করে দিয়েছ লম্বা দালান।
আগাছার জমিতে বুনে দিয়েছ জ্বলন্ত উদ্ভিদের দিকচিহ্নহীন বিছানা।
এখন ঘরে টাঙানোর জন্যে একটা গোটা আকাশ না পেলে 
আমার ভাল লাগে না।
এখন হাঁটা-চলার সময় মাথায় রাজছত্র না ধরলে 
আমার ভালো লাগে না।
পৃথিবীর মাপের চেয়ে অনেক বড় করে দিয়েছ আমার লাল বেলুন।
গোলমরিচের মতো এই একরত্তি পৃথিবীকে 
আর ভালো লাগে না আমার।

Thursday, June 5, 2014

Kathopakathan # 29 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
দূরে চলে যাও। তবু ছায়া 
আঁকা থাকে মেঘে। যেন ওড়ে 
বাতাসের সাদা বারান্দায় 
বালুচরী বহু বর্ণময়।
গান শেষ তবু তখনো তার 
প্রতিধ্বনিরা দশ দিকে।
যেন শুধু তুমি তোমারই সব 
মূর্তিতে ঠাসা মিউজিয়াম
ট্রামলাইনের, ছাইগাদার 
গর্তে গভীর কলকাতায়।
কি করে এমন পারো তুমি 
নন্দিনী?

নন্দিনী-
সহজ ম্যাজিক। শিখবে কি?
রুমালটা দাও, ঘন গিঁটে 
চোখ দুটো বাঁধি। তারপরে 
জাদুকাঠিটাকে ছুঁইয়ে দি,
কাছে এসো।

শুভঙ্কর-
অত বোকা নই নন্দিনী।
খানিকটা জানি, পুরুষকে 
কি করে বানাও পোষা পাখি।
ঝর্না দেখাবে, কখনো তার 
উৎসের চাবি খুলবে না।
বিছানা পাতবে মখমলের 
কিন্তু বসতে দেবে চেয়ার।
সাজানো দোকানে থাককে থাক 
উর্বরতার বীজ ও সার 
অথচ দু'বেলা বন্ধ ঝাঁপ।
জলের যা খেলা, ভাসিয়ে সুখ 
গাছ ডুবে গিয়ে মরে মরুক 
জলের কি?

নন্দিনী-
মিথ্যে! মিথ্যে! শুভঙ্কর?
তোমরাই ভুলে গাছকে মেঘ 
বানিয়ে চেয়েছ বৃষ্টিজল।
যে মোমবাতির ক্ষনজীবন 
তারই কাছে এসে কেবলি চাও 
এমন আলো যা অন্তহীন।
তোমরা বুনছো কল্পনায় 
সোনালী সুতোর লম্বা লেস।

শুভঙ্কর-
নন্দিনী! হায় এইটুকু 
যথেচ্ছাচার আছে বলেই 
এই মরা-হাজা পৃথিবীটার 
মৃত্যু চাইনি এখনো কেউ।
নইলে তো কবে কড়িকাঠে 
ঝুলিয়ে দিতাম। এবং এর 
কৃতিত্বটুকু সবই তোমার 
তুমি মানে নারী, যার ছোঁয়ায় 
ঘুঁটে পুড়ে হয় গন্ধ ধূপ।

নন্দিনী-
চুপ কর তুমি, চুপ কর 
পেয়েছে তোমাকে বাচালতায়।

শুভঙ্কর-
এটাও তো মজা। যতক্ষন 
তুমি পাশে থাক, আমি নদী 
নৌকোর পাল, ঝোড়ো হাওয়া।
তুমি চলে গেলে আমি পাহাড় 
তাও নয়, যেন ইঁট বা কাঠ 
কাঠের টেবিল, বইয়ের rack।
এত বোবা থাকি, লোকে ভাবে 
মরে গেছি বুঝি অনেকদিন।
একটু আগে যে বললে না
সোনালী সুতোর লম্বা লেস,
আসলে তখন সেইটাকেই 
বুনি, যাতে লোকে দেখতে পায় 
যে-যার বুকের সঙ্গোপন 
উপনিবেশ।

Kathopakathan # 28 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
আমার আগে আর কাউকে ভালবাসনি তুমি?

শুভঙ্কর-
কেন বাসব না? অনেক।
কৃষ্ণকান্তের উইলের ভ্রমর 
যোগাযোগের কুমু 
পুতুলনাচের ইতিকথার কুসুম 
অপরাজিত-র.....

নন্দিনী-
ইয়ার্কি করো না। সত্যি কথা বলবে।

শুভঙ্কর-
রোগা ছিপছিপে যমুনাকে ভালোবেসেছিলাম বৃন্দাবনে 
পাহাড়ী ফুলটুংরীকে ঘাটশিলায় 
দজ্জাল যুবতী তোর্সাকে জলপাইগুড়ির জঙ্গলে 
আর সেই বেগমসাহেবা, নীল বোরখায় জরীর কাজ 
নাম চিল্কা 

নন্দিনী-
আবার বাজে কথার আড়াল তুলছ?

শুভঙ্কর-
বাজে কথা নয়। সত্যিই।
এদের কাছ থেকেই তো ভালবাসতে শেখা।
অনন্ত দুপুর একটা ঘাস ফড়িং-এর পিছনে 
এক একটা মাছরাঙ্গার পিছনে গোটা বাল্যকাল 
কাপাসতুলো ফুটছে 
সেইদিকে তাকিয়ে দুটো তিনটে শীত-বসন্ত 
এইভাবেই তো শরীরের খাল-নালায় 
চুইয়ে চুইয়ে ভালবাসার জল।
এইভাবেই তো হৃদয়বিদারক বোঝাপড়া
কার আদলে কি, আর কোনটা মাংস, কোনটা কস্তুরী গন্ধ।
ছেলেবেলায় ভালবাসা ছিল 
একটা জামরুল গাছের সঙ্গে।
সেই থেকে যখনই কারো দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই 
জামরুলের নিরপরাধ স্বচ্ছতা ভরাট হয়ে উঠেছে 
গোলাপী আভার সর্বনাশে,
অকাতর ভালবেসে ফেলি তৎক্ষণাৎ 
সে যদি পাহাড় হয়, পাহাড় 
নদী হয়, নদী 
কাকাতুয়া হলে, কাকাতুয়া 
নারী হলে, নারী।

Kathopakathan # 27 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
হঠাৎ এলে যে? বেশ তো 
ভুলে ছিলে। ভুলে ছিলামও।
গাছে এঁটে ছিল ছায়াময় 
স্মৃতির ছাপানো ছবিরা।
রোগা হয়ে গেছ। আমিও?
হতে পারে। বালি ঢুকেছে 
জলস্রোতের গভীরে।
বেলা তো বাড়ছে। নীলিমা 
নীল হয়ে যাবে ক্রমশ।
কিছু লাল ফুল এখনও 
তবুও ফুটছে। জানি না 
কে ফোটায়। সে কি তোমারই 
চকিত আলোক? অথবা 
আমার চৌকো কুঠুরীর 
গোপন রক্তারক্তি?
দাঁড়িয়ে থাকবে? বোসো না।
এই তো মাদুর বিছানো 
আমার সর্ব শরীরে।