Thursday, June 5, 2014

Kathopakathan # 29 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
দূরে চলে যাও। তবু ছায়া 
আঁকা থাকে মেঘে। যেন ওড়ে 
বাতাসের সাদা বারান্দায় 
বালুচরী বহু বর্ণময়।
গান শেষ তবু তখনো তার 
প্রতিধ্বনিরা দশ দিকে।
যেন শুধু তুমি তোমারই সব 
মূর্তিতে ঠাসা মিউজিয়াম
ট্রামলাইনের, ছাইগাদার 
গর্তে গভীর কলকাতায়।
কি করে এমন পারো তুমি 
নন্দিনী?

নন্দিনী-
সহজ ম্যাজিক। শিখবে কি?
রুমালটা দাও, ঘন গিঁটে 
চোখ দুটো বাঁধি। তারপরে 
জাদুকাঠিটাকে ছুঁইয়ে দি,
কাছে এসো।

শুভঙ্কর-
অত বোকা নই নন্দিনী।
খানিকটা জানি, পুরুষকে 
কি করে বানাও পোষা পাখি।
ঝর্না দেখাবে, কখনো তার 
উৎসের চাবি খুলবে না।
বিছানা পাতবে মখমলের 
কিন্তু বসতে দেবে চেয়ার।
সাজানো দোকানে থাককে থাক 
উর্বরতার বীজ ও সার 
অথচ দু'বেলা বন্ধ ঝাঁপ।
জলের যা খেলা, ভাসিয়ে সুখ 
গাছ ডুবে গিয়ে মরে মরুক 
জলের কি?

নন্দিনী-
মিথ্যে! মিথ্যে! শুভঙ্কর?
তোমরাই ভুলে গাছকে মেঘ 
বানিয়ে চেয়েছ বৃষ্টিজল।
যে মোমবাতির ক্ষনজীবন 
তারই কাছে এসে কেবলি চাও 
এমন আলো যা অন্তহীন।
তোমরা বুনছো কল্পনায় 
সোনালী সুতোর লম্বা লেস।

শুভঙ্কর-
নন্দিনী! হায় এইটুকু 
যথেচ্ছাচার আছে বলেই 
এই মরা-হাজা পৃথিবীটার 
মৃত্যু চাইনি এখনো কেউ।
নইলে তো কবে কড়িকাঠে 
ঝুলিয়ে দিতাম। এবং এর 
কৃতিত্বটুকু সবই তোমার 
তুমি মানে নারী, যার ছোঁয়ায় 
ঘুঁটে পুড়ে হয় গন্ধ ধূপ।

নন্দিনী-
চুপ কর তুমি, চুপ কর 
পেয়েছে তোমাকে বাচালতায়।

শুভঙ্কর-
এটাও তো মজা। যতক্ষন 
তুমি পাশে থাক, আমি নদী 
নৌকোর পাল, ঝোড়ো হাওয়া।
তুমি চলে গেলে আমি পাহাড় 
তাও নয়, যেন ইঁট বা কাঠ 
কাঠের টেবিল, বইয়ের rack।
এত বোবা থাকি, লোকে ভাবে 
মরে গেছি বুঝি অনেকদিন।
একটু আগে যে বললে না
সোনালী সুতোর লম্বা লেস,
আসলে তখন সেইটাকেই 
বুনি, যাতে লোকে দেখতে পায় 
যে-যার বুকের সঙ্গোপন 
উপনিবেশ।

No comments:

Post a Comment