Wednesday, September 3, 2014

Kathopakathan # 37 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
ভালবাসা, সেও আজ হয়ে গেছে ষড়যন্ত্রময়।
নন্দিনী! এসব কথা তোমার কখনো মনে হয়?
চক্রান্তের মত যেন, সারা গায়ে অপরাধপ্রবনতা মেখে 
একটি যুবক আজ যুবতীর কাছাকাছি এসে 
সাদা রুমালের গায়ে ফুলতোলা শেখে।
যেন এই কাছে আসা সমাজের পক্ষে খুব বিপজ্জনক।
যেন ওরা আগ্নেয়াস্ত্র পেয়ে গেছে মল্লিকবাগানে 
যেন ওরা হাইজ্যাকের নথিপত্র জানে 
এসেছে বারুদ ভরে গোপন কামানে।

একটি যুবক যদি প্রতিদিন পাখি-রং বিকেলবেলায় 
তার কোনো নায়িকার হাতে রাখে হাত 
যেন এই কলকাতার মারাত্মক ক্ষতি করে দেবে বজ্রপাত।
কলকাতায় জঙ্গল গজাবে 
কলকাতাকে সাপে-খোপে খাবে।
এই সব ফিসফাস, চারিদিকে অবিরল এই সব 
ছুঁচোর কেত্তন,
একটি যুবক এসে যুবতীর কাছাকাছি বসেছে যখন।

নন্দিনী! তোমার মনে পড়ে?
মামাশ্বশুরের মত বিচক্ষন মুখভঙ্গি করে 
একবার এক বুড়ো হাড় এসে প্রশ্ন করেছিল,
মেয়েটির সঙ্গে কেন এত মাখামাখি
মেয়েটির মধ্যে কোন গুপ্তধন আছে-টাছে নাকি?
লুকনো এয়ারপোর্ট আছে?
জাল-নোট ছাপাবার কারখানা আছে?
আন্তর্জাতিক কোন পাকচক্র আছে?
তাহলে কিসের জন্যে ছুঁচ ও সুতোর মত 
শীত-গ্রীষ্ম এত কাছে কাছে?

Kathopakathan # 36 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
তুমিই আমার ধ্বংস হবে তা জানলে 
এমন করে কি ভাসাতাম ডিঙ্গি নৌকো?
ভাসাতাম?
তুমি চলে যাবে সমুদ্রে আগে বলনি 
তাহলে কি গায়ে মাখাতাম ঝড়-ঝঞ্ঝা?
মাখাতাম?
নুড়িতে-পাথরে নূপুর বাজিয়ে ছোট্ট 
জলরেখা ছিলে দুই হাত দিয়ে ধরেছি।
ধরা দিয়েছ।
এখন দুকুল ভরেছে প্রবাহে প্লাবনে 
উঁচু মাস্তুলে জাহাজ এসেছে ডাকতে।
ওকে সাড়া দাও।।

Kathopakathan # 35 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
লোকে বলে শুনি সেলায়ে তোমার পাকা হাত 
ছুঁচ দিয়ে লেখো কবিতা।

নন্দিনী-
গোয়েন্দা নাকি? আমার যা কিছু লুকানো 
জানতে হবে কি সবই তা?

শুভঙ্কর-
তর্ক কোরো না জুড়ে দেবে কিনা এখুনিই 
হৃৎপিন্ডের ক্ষতটা।

নন্দিনী-
দিতে পারি তবে মজুরি পড়বে বিস্তর 
জোগাতে পারবে অতটা?

শুভঙ্কর-
কাজ যদি হয় নিখুঁত,পাবেই মজুরী,
ভেবেছো পালাবো গর্তে?

নন্দিনী-
হৃৎপিন্ডের ভিতরে থাকে যে ঝর্ণা 
দিতে হবে স্নান করতে।

Kathopakathan # 34 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
বল তো কত বয়স হল তার?

নন্দিনী-

কার?

শুভঙ্কর-

যার মাথাভর্তি সবুজ দেবদারু চুল 
যার টলমলে পা কেবল ভুল পথের কাঁটার উপরে 
যার সমস্ত কথাই অস্পষ্ট, সন্ত্রাসবাদীদের মত সংকেতময় এবং বিস্ফোরক 
যে কেবল হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় এমন বাগানে 
যেখানে ফুলের গায়ে হাত ছোঁয়ালেই অট্টহাসির বিদ্যুৎ 
যেখানে লতাগুল্মের আড়ালে পিছলে পড়ার গোলাপী গহ্বর 
আর ফুসলিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার খর জলস্রোত।
বল তো কত বয়স হল তার?

নন্দিনী-

তিন বছর।

শুভঙ্কর-

তাহলে মনে আছে তিন বছর আগে ঠিক এইখানে 
ঠিক এই রকম পাঁশুটে সন্ধ্যার সাড়ে পাঁচটায় 
এইরকম আরশোলা রঙের ছেঁড়া পর্দার আড়ালে 
তোমার আর আমার যৌথ উল্লাসের ঔরসে জন্ম হয়েছিল তার 
তোমার প্রথম চিঠিতে তুমি যার নাম দিয়েছিলে, অসহ্য সুখ 
আমার প্রথম চিঠিতে আমি যার নাম দিয়েছিলাম, নবজন্ম।

Saturday, June 7, 2014

Kathopakathan # 33 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
খবর্দার! হাত সরিয়ে নাও।
ব্যাগে ভরে নাও টাকাগুলো।
আজ সমস্ত কিছুর দাম দেবো আমি।

নন্দিনী-
কি হচ্ছে কি শুভঙ্কর? কেন এমন পাগলামির ঢেউয়ে দুলছ?
এইজন্যই তোমার উপর রাগ হয় এমন।
মাঝে মাঝে অর্থমন্ত্রীদের মতো গোঁয়ার হয়ে ওঠো তুমি।
কাল কতবার বলেছিলুম, চলো উঠি, চলো উঠি।
আকাশ আলকাতরা হয়ে আসছে, চলো, উঠি।
এখুনি সেনাবাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়বে বৃষ্টি, চলো উঠি।
তুমি ঘাসের উপর বুড়ো বটগাছ হয়ে বসে রইলে।
কলকাতা ডুবল, তুমিও ডুবলে 
আমাকেও ডোবালে।
কেন আমার কথা শোনো না বল তো?
আমি কি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি 
যে সিংহাসনের হাতলে হাত রাখলেই হারিয়ে যাবে স্মৃতিহীন অন্ধকারে?
কলের জলের মতো 
ক্যালেন্ডারের তারিখের মতো 
বন্যার গায়ে গায়ে খরার মতো 
আমি তো তোমার সঙ্গেই আছি। এবং থাকবো।
তাহলে কেন আমার কথা শোনো না শুভঙ্কর?

Friday, June 6, 2014

Kathopakathan # 32 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
তোমার জন্য এনেছি যে উপহার 
বলতে পারবে নাম?
রামধনু? ধ্যেৎ, চাইলে কি কেউ তার 
ধরাছোঁয়া পায় না কি?
অভ্রের খনি? নীল পাহাড়ের চূড়ো?
আমি কি বিড়লা টাটা?
তোমার জন্যে এনেছি রক্ত খুঁড়ে 
চন্দন এক বাটি।

Kathopakathan # 31 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
যতক্ষন পাশে থাকো, যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি 
আমি যেন মেঘে জলে মেশা কোনো আত্মহারা পাখি।
বলতো কি পাখি?

শুভঙ্কর-
যতক্ষন পাশে থাকো, যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা 
উল্কার স্ফুলিঙ্গ দিয়ে অন্ধকারে দীর্ঘ ছবি আঁকা।
বলতো কি ছবি?

নন্দিনী-
যতক্ষন কথা বলো, হাসো ও ঝরাও ধারাজল 
বীজ থেকে জেগে ওঠে অফুরন্ত গাছ, বনতল।
বলতো কি গাছ?

শুভঙ্কর-
যতক্ষন পাশে থাকো ভূমিকম্প, সুখের সন্ত্রাস 
পৌঁছে যাই সেখানে, যেখানে বসন্ত বারোমাস।
বলতো কি দেশ?

Kathopakathan # 30 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
তুমি আমার সর্বনাশ করেছ শুভঙ্কর।
কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার। কিচ্ছু না।
জ্বলন্ত উনোনে ভিজে কয়লার ধোঁয়া আর শ্বাসকষ্ট 
ঘিরে ফেলেছে আমার দশদিগন্ত।
এখন বৃষ্টি নামলেই কানে আসে নদীর পাড় ভাঙার অকল্যাণ শব্দ 
এখন জ্যোৎস্না ফুটলেই দেখতে পাই 
অন্ধকার শশ্মানযাত্রীর মত ছুটে চলেছে মৃতদেহের খোঁজে।
কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার। কিচ্ছু না।
আগে আয়নার সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা সাজগোজ 
পাউডারে, সাবানে, সেন্টে, সুর্মায় 
নিজেকে যেন কেচে ফর্সা করে তোলার মত সুখ।
এখন প্রতিবিম্বের দিকে তাকালেই 
সমস্ত মুখ ভরে যায় গোলমরিচের মতো ব্রণে, বিস্বাদে, বিপন্নতায়।
এখন সমস্ত স্বপ্নই যেন বিকট মুখোশের হাসাহাসি 
দুঃস্বপ্নকে পার হওয়ার সমস্ত সাঁকো ভেঙে চুরমার।
কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার। কিচ্ছু না।

শুভঙ্কর-
তুমিও কি আমার সর্বনাশ করনি নন্দিনী?
আগে গোলমরিচের মতো এতটুকু ছিলাম আমি।
আমার এক ফোঁটা খাঁচাকে তুমিই করে দিয়েছ লম্বা দালান।
আগাছার জমিতে বুনে দিয়েছ জ্বলন্ত উদ্ভিদের দিকচিহ্নহীন বিছানা।
এখন ঘরে টাঙানোর জন্যে একটা গোটা আকাশ না পেলে 
আমার ভাল লাগে না।
এখন হাঁটা-চলার সময় মাথায় রাজছত্র না ধরলে 
আমার ভালো লাগে না।
পৃথিবীর মাপের চেয়ে অনেক বড় করে দিয়েছ আমার লাল বেলুন।
গোলমরিচের মতো এই একরত্তি পৃথিবীকে 
আর ভালো লাগে না আমার।

Thursday, June 5, 2014

Kathopakathan # 29 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
দূরে চলে যাও। তবু ছায়া 
আঁকা থাকে মেঘে। যেন ওড়ে 
বাতাসের সাদা বারান্দায় 
বালুচরী বহু বর্ণময়।
গান শেষ তবু তখনো তার 
প্রতিধ্বনিরা দশ দিকে।
যেন শুধু তুমি তোমারই সব 
মূর্তিতে ঠাসা মিউজিয়াম
ট্রামলাইনের, ছাইগাদার 
গর্তে গভীর কলকাতায়।
কি করে এমন পারো তুমি 
নন্দিনী?

নন্দিনী-
সহজ ম্যাজিক। শিখবে কি?
রুমালটা দাও, ঘন গিঁটে 
চোখ দুটো বাঁধি। তারপরে 
জাদুকাঠিটাকে ছুঁইয়ে দি,
কাছে এসো।

শুভঙ্কর-
অত বোকা নই নন্দিনী।
খানিকটা জানি, পুরুষকে 
কি করে বানাও পোষা পাখি।
ঝর্না দেখাবে, কখনো তার 
উৎসের চাবি খুলবে না।
বিছানা পাতবে মখমলের 
কিন্তু বসতে দেবে চেয়ার।
সাজানো দোকানে থাককে থাক 
উর্বরতার বীজ ও সার 
অথচ দু'বেলা বন্ধ ঝাঁপ।
জলের যা খেলা, ভাসিয়ে সুখ 
গাছ ডুবে গিয়ে মরে মরুক 
জলের কি?

নন্দিনী-
মিথ্যে! মিথ্যে! শুভঙ্কর?
তোমরাই ভুলে গাছকে মেঘ 
বানিয়ে চেয়েছ বৃষ্টিজল।
যে মোমবাতির ক্ষনজীবন 
তারই কাছে এসে কেবলি চাও 
এমন আলো যা অন্তহীন।
তোমরা বুনছো কল্পনায় 
সোনালী সুতোর লম্বা লেস।

শুভঙ্কর-
নন্দিনী! হায় এইটুকু 
যথেচ্ছাচার আছে বলেই 
এই মরা-হাজা পৃথিবীটার 
মৃত্যু চাইনি এখনো কেউ।
নইলে তো কবে কড়িকাঠে 
ঝুলিয়ে দিতাম। এবং এর 
কৃতিত্বটুকু সবই তোমার 
তুমি মানে নারী, যার ছোঁয়ায় 
ঘুঁটে পুড়ে হয় গন্ধ ধূপ।

নন্দিনী-
চুপ কর তুমি, চুপ কর 
পেয়েছে তোমাকে বাচালতায়।

শুভঙ্কর-
এটাও তো মজা। যতক্ষন 
তুমি পাশে থাক, আমি নদী 
নৌকোর পাল, ঝোড়ো হাওয়া।
তুমি চলে গেলে আমি পাহাড় 
তাও নয়, যেন ইঁট বা কাঠ 
কাঠের টেবিল, বইয়ের rack।
এত বোবা থাকি, লোকে ভাবে 
মরে গেছি বুঝি অনেকদিন।
একটু আগে যে বললে না
সোনালী সুতোর লম্বা লেস,
আসলে তখন সেইটাকেই 
বুনি, যাতে লোকে দেখতে পায় 
যে-যার বুকের সঙ্গোপন 
উপনিবেশ।

Kathopakathan # 28 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
আমার আগে আর কাউকে ভালবাসনি তুমি?

শুভঙ্কর-
কেন বাসব না? অনেক।
কৃষ্ণকান্তের উইলের ভ্রমর 
যোগাযোগের কুমু 
পুতুলনাচের ইতিকথার কুসুম 
অপরাজিত-র.....

নন্দিনী-
ইয়ার্কি করো না। সত্যি কথা বলবে।

শুভঙ্কর-
রোগা ছিপছিপে যমুনাকে ভালোবেসেছিলাম বৃন্দাবনে 
পাহাড়ী ফুলটুংরীকে ঘাটশিলায় 
দজ্জাল যুবতী তোর্সাকে জলপাইগুড়ির জঙ্গলে 
আর সেই বেগমসাহেবা, নীল বোরখায় জরীর কাজ 
নাম চিল্কা 

নন্দিনী-
আবার বাজে কথার আড়াল তুলছ?

শুভঙ্কর-
বাজে কথা নয়। সত্যিই।
এদের কাছ থেকেই তো ভালবাসতে শেখা।
অনন্ত দুপুর একটা ঘাস ফড়িং-এর পিছনে 
এক একটা মাছরাঙ্গার পিছনে গোটা বাল্যকাল 
কাপাসতুলো ফুটছে 
সেইদিকে তাকিয়ে দুটো তিনটে শীত-বসন্ত 
এইভাবেই তো শরীরের খাল-নালায় 
চুইয়ে চুইয়ে ভালবাসার জল।
এইভাবেই তো হৃদয়বিদারক বোঝাপড়া
কার আদলে কি, আর কোনটা মাংস, কোনটা কস্তুরী গন্ধ।
ছেলেবেলায় ভালবাসা ছিল 
একটা জামরুল গাছের সঙ্গে।
সেই থেকে যখনই কারো দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই 
জামরুলের নিরপরাধ স্বচ্ছতা ভরাট হয়ে উঠেছে 
গোলাপী আভার সর্বনাশে,
অকাতর ভালবেসে ফেলি তৎক্ষণাৎ 
সে যদি পাহাড় হয়, পাহাড় 
নদী হয়, নদী 
কাকাতুয়া হলে, কাকাতুয়া 
নারী হলে, নারী।

Kathopakathan # 27 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
হঠাৎ এলে যে? বেশ তো 
ভুলে ছিলে। ভুলে ছিলামও।
গাছে এঁটে ছিল ছায়াময় 
স্মৃতির ছাপানো ছবিরা।
রোগা হয়ে গেছ। আমিও?
হতে পারে। বালি ঢুকেছে 
জলস্রোতের গভীরে।
বেলা তো বাড়ছে। নীলিমা 
নীল হয়ে যাবে ক্রমশ।
কিছু লাল ফুল এখনও 
তবুও ফুটছে। জানি না 
কে ফোটায়। সে কি তোমারই 
চকিত আলোক? অথবা 
আমার চৌকো কুঠুরীর 
গোপন রক্তারক্তি?
দাঁড়িয়ে থাকবে? বোসো না।
এই তো মাদুর বিছানো 
আমার সর্ব শরীরে।

Tuesday, May 27, 2014

Kathopakathan # 26 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
আমার চিঠিটার জবাব কই?
যদি না এনে থাকো তাহলে আজ 
তুলবো দুই হাতে এমন ঝড় 
বসন উড়ে যাবে চন্ডীগড়
খোঁপার খিল খুলে বন্দী চুল 
হানবে চোখে মুখে আক্রমন।
কেউটে সাপ হব। সাত পাকে 
নগ্ন দৃশ্যের চূড়া ও তল 
জড়াবো, এমনই সে আলিঙ্গন 
ভাঙবে হাড়-গোড়। আমার কি?

নন্দিনী-
এমন ছটফটে ধৈর্যহীন 
মানুষ কোনদিন দেখিনি আর।
শুনেছি আজকাল বোদলেয়ার 
রাঁবো আর ভের্লেন পরছো খুব।
এখন সেই সব আগুন-তাপ 
আমারই ঘাড়ে বুঝি আছ্ড়াবে?
চিঠিটা নাও, নিয়ে শান্ত হও।
আমার হাড়-গোড় ভেঙ্গো না আর।
ভাঙলে কার ফুল তুলবে রোজ 
শুনি মশাই?

Kathopakathan # 25 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
হাত-ঘড়িটা কি ছোঁ মেরেছে গাঙচিলে?
শকুন্তলার আংটির মত গিলেছে কি কোনো রাঘব বোয়াল-টোয়াল?
কেন?
আসবার কথা কখন, এখন এলে?
বসে আছি যেন যুগযুগান্ত, ভাঙা মন্দিরে উপুড় শালগ্রাম।
চা খেলাম, খেয়ে সিগারেট, খেয়ে আবার- বেয়ারা, কফি!
আর ঘড়ি দেখা, এবং যে কোনো জুতোর শব্দে চমকে চমকে ওঠা।
মনে হচ্ছিল অনন্তকাল প্রতীক্ষাটারও অন্য নামটা প্রেম।

নন্দিনী-
সরি, সত্যিই! কি করবো বল রাস্তায় যেন মাছি থকথকে ভিড় 
তারপরে লাল মিছিলে মিছিলে লরিতে লরিতে সব রাস্তায় বন্ধ 
তারপরে এই লু হাঁকানো রোদ, কি যে বিচ্ছিরি! জ্বলে-পুড়ে সব খাক, 
আকাশটার কি ব্যামো হল কিছু? আষাঢ় মাসেও মেঘের কলসী ফাঁকা।
মনে হচ্ছিল শতাব্দী কেটে যাবে 
তবু কোনো দিন লেনিন সরণি পারবে না যেতে শেক্সপীয়রের কাছে।
তারপরে জানো কাল সারারাত ঘুমোইনি, শুধু কেঁদে 
কাঁদব যে তারও সুখ কি কপালে আছে?
পাশে বোন শোয়, পিসিমা খাটের নিচে।

শুভঙ্কর-
হঠাৎ কান্না কেন?

নন্দিনী-
তোমার একটা চিঠি সামহাউ পড়েছে বাবার হাতে।
বাবা গম্ভীর। তার মানে আজ কাল বা পরশু ঘটবে বিস্ফোরণ।
পুরে দেওয়া হবে বিধিনিষেধের গোল গন্ডীর ভিতরে হ্যাঁচকা টানে।

শুভঙ্কর-
যা অনিবার্য, দ্রুত ঘটে যাওয়া ভালো।
আজ সকালের কাগজেই লেখা আছে 
ঘন্টায় আশি মাইল দৌড়ে আসছে বৃষ্টি-ঝড়।
বুঝেছি অতঃপর 
পরিতে হইবে সারা গায়ে রণসাজ।
মনে পড়ে? আমি ভিক্টোরিয়ার মাঠে একদিন শীতের সন্ধেবেলায় 
তোমার শরীর ভর্তি আগুনে সেঁক-তাপ নিতে নিতে 
বলিয়াছিলাম, নন্দিনী! মনে রেখো 
ভালবাসা মানে আমরণ এক রক্ত রণাঙ্গন।

Kathopakathan # 24 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
তোমাকে আজকাল এত রোগা লাগে কেন শুভঙ্কর?
খুব ম্রিয়মান লাগে 
যেন ঘন বর্ষাকাল, মেঘের ধূসর ডানা, জল-কোলাহল 
ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফেলছে তোমাকে।
ভাঙা কোনো মন্দিরের পুরনো গন্ধের মত লাগে।
অতীতকালের কোনো স্তম্ভে আঁটা শ্যাওলার মত 
অতীতে সবুজ ছিলে, এখন শোকের মত হীন।
তোমাকে কি ঘিরে আছে কোন কারাগার?
গরাদের কালো হাত, ঘন বৃক্ষজাল?
অথবা তুমি কি কিছু হারিয়েছ, অত্যন্ত আপন কোনো কিছু?
সন্ধ্যাতারা ডুবে গেলে কোনো কোনো পাখি শুধু কাঁদে।
তোমার সোনার আংটি জলের গহ্বরে ভেসে গেছে?
তোমার গায়ের সেই চাঁপা রং, চমৎকার শোভন প্রচ্ছদ 
শুভঙ্কর কোথায় হারালে?

শুভঙ্কর-
নন্দিনী, তুমি তো জানো আমার বাগান পাট নেই,
যেটুকু বাগান ছিল শৈশবের সঙ্গে ঝরে গেছে।
তুমি ফুল ভালোবাসো বলে 
তোমাকে ফুলের বৃন্তে মাঙ্গলিক উৎসবের মত লাগে বলে 
আমাকে ফুলের খোঁজে যেতে হয় পথ খুঁজে খুঁজে 
সিন্ধুনদ, হিন্দুকুশ, হরপ্পার মত দূরান্তরে।
সেই সব পথে বহু ভাঙাচোরা বিমানবন্দর 
বহু যুদ্ধ জাহাজের হাড়-গোড়, মেশিনগানের 
কঙ্কাল-কবর, রুঢ় কলকব্জা,-কাঠ-কয়লা-খড়।
সেই সব পথে বহু পতাকার সার কিন্তু প্রাণচিহ্ন নেই।
দুরারোগ্য অসুখের শ্বাসকষ্টে বিদীর্ণ বাতাস 
এবং পাথরও খুব, বড় বড় ডাকাতের মত পাথর।
যেতে যেতে রক্তপাত হয়।
যেতে যেতে সর্বাঙ্গের উদ্যমে ও অভিলাষে, বাসনায়, বাহুতে, বল্কলে 
নীল মরচে পড়ে।

Sunday, May 11, 2014

Kathopakathan # 23 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
কাল তোমাকে ভেবেছি বহুবার 
কালকে ছিল আমার জন্মদিন।
পরেছিলাম তোমারই দেওয়া হার।

শুভঙ্কর-
আমার হার কি আমার চেয়েও বড়?
বালিকে তুমি বিলোলে আলিঙ্গন 
সমুদ্রকে দিলে না কুটো খড়ও।

নন্দিনী-
আমার কি দোষ? ডেকেছি বহুবার 
কিন্তু তোমার এমন টেলিফোন 
ঘাটের মড়া, নেইকো কোনো সাড়।

শুভঙ্কর-
বাতাস ছিল, বাতাসে ছিল পাখি 
আকাশ ছিল, আকাশে ছিল চাঁদ 
তাদের বললে, খবর দিত নাকি?

নন্দিনী-
আজ্ঞে মশাই, বলেছিলাম তাও।
তারা বললে, ধুঁকছি লোডশেডিং-এ,
নড়তে-চড়তে পারব না এক পাও।

Kathopakathan # 22 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
তেরোই জুলাই কথা দিয়েছিলে আসবে।
সেইমত আমি সাজিয়েছিলাম আকাশে 
ব্যস্ত আলোর অজস্র নীল জোনাকি।
সেই মত আমি জানিয়েছিলাম নদীকে 
প্রস্তুত থেকো, জলে যেন ছায়া না পড়ে 
মেঘ বা গাছের। তেরোই জুলাই এলে না।
জ্বর হয়েছিল? বাড়িতে তো ছিল টেলিফোন।
জানালে পারতে। থার্মোমিটার সাজতাম।
নীলিমাকে ছুঁয়ে পাখি হতো পরিতৃপ্ত।

Kathopakathan # 21 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
তোমাদের ওখানে এখন লোডশেডিং কি রকম?

নন্দিনী-
বোলো না। দিন নেই, রাত নেই, জ্বালিয়ে মারছে।

শুভঙ্কর-
তুমি তখন কি করো?

নন্দিনী-
দরজা খুলে দিই।
জানলা খুলে দিই।
পর্দা খুলে দিই।
আজকাল হাওয়াও হয়েছে তেমনি ফন্দিবাজ।
যেমনি অন্ধকার, অমনি মানুষের ত্রিসীমানা ছেড়ে দৌড়।

শুভঙ্কর-
তুমি তখন কি করো?

নন্দিনী-
গায়ে জামা-কাপড় রাখতে পারি না।
সব খুলে দিই, 
চোখের চশমা, চুলের বিনুনি, বুকের আঁচল, লাজ-লজ্জা সব।

শুভঙ্কর-
টাকা থাকলে তোমার নাম নতুন ঘাট বাঁধিয়ে দিতুম কাশী মিত্তিরে 
এমন তোমার উথাল-পাতাল দয়া।
তুমি অন্ধকারকে সর্বস্ব, সব অগ্নিস্ফুলিঙ্গ খুলে দিতে পার কত সহজে।
আর শুভঙ্কর মেঘের মত একটু ঝুঁকলেই 
কি হচ্ছে কি?
শুভঙ্কর তার খিদে তেষ্টার ডালপালা নাড়লেই 
কি হচ্ছে কি?
শুভঙ্কর রোদে-পোড়া হরিনের জিভ নাড়ালেই 
কি হচ্ছে কি?
পরের জন্মে দশদিগন্তের অন্ধকার হবো আমি।

Kathopakathan # 20 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
ইলাস্ট্রেটেড উইকলিতে তোমার তিনটে কবিতা ছাপা হল 
আমায় কিন্তু বলনি।
মধুমিতার সঙ্গে দেখা এলিয়াসে, সেই আমাকে বলল।
শুনে এমন রাগ হল যে ভেবেছিলাম বন্ধ করব দেখা।
তুমি কোথায় কি লিখছ তা শুনতে হবে হাটের লোকের মুখে?
সেই রাগেতেই চিঠির জবাব লিখেও তাকে কবর দিয়ে এলাম 
লেপ-তোষকের নীচে।

শুভঙ্কর-
উপরে কাঁটা, নিচে কাঁটা, উঠতে-বসতে লাঠি-ঝাঁটা 
এমনি আমার ভাগ্য।
তোমার কাছেই পেয়েছিলাম শুকনো পাতায় প্রথম বৃষ্টিজল 
তুমিই প্রথম শুনিয়েছিলে সেই বাঁশি যা ক্ষতের মুখে মলম।
তেমনি আজও তোমার মুখেই শুনছি প্রথম 
ইলাস্ট্রেটেড উইকলিটার কথা,
এ পর্যন্ত চোখের দেখাও দেখিনি।
রাগের মেঘটা সরিয়ে দিয়ে এবার একটু প্রসন্ন মুখ তুলুন।

Kathopakathan # 19 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

একটা মজার গল্প তোমায় বলতে ভুলে গেছি।
সেদিন ছিল বেস্পতিবার। আকাশ ছুঁড়ে মারল ঘূর্ণিঝড় 
অমিতাভর সঙ্গে হঠাৎ কলেজ স্ট্রীট-এ দেখা হতেই, এই যে শুভঙ্কর 
কেমন আছিস, এটা-ওটা দু-দশ কথার পর 
আসল প্রশ্ন, এখনো সেই নন্দিনীতেই ডুবে আছিস নাকি?
ইদানীং যা লেখা-টেখা বেরোচ্ছে তা পড়লে মনে হয় 
নন্দিনী তোর আকাশ এবং তুই উড়ন্ত পাখি।
অমিতাভ, তুমি জানই, পলিটিক্সে নিবেদিত প্রাণ 
তাই তাকে বললাম 
নন্দিনীকে ধরিস যদি প্রকান্ড বিপ্লব 
আমি হলাম তার ভিতরের দাবি-দাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্লোগান।

Kathopakathan # 18 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

হ্যালো, হ্যালো, কখন আসছ তুমি?
কোথায় মেঘ? কোথাও মেঘ নেই।
হ্যালো, হ্যালো, বৃষ্টি যদি নামে?
ভিজবে, হ্যালো, ভিজবো, অনায়াসে 
গাছপালারা যেমন করে ভেজে 
ভিজলে তৃণ রাজার ছেলে হয় 
হ্যালো, হ্যালো, বলছি ভিজব জলে 
ভেজা মাটির গন্ধ হবে তুমি 
আমি তাতে ছড়াবো ডালপালা।
শুনতে পাচ্ছো? হ্যালো হ্যালো হ্যালো 
বেরিয়ে পড়, আকাশে রামধনু 
উঠবে, হ্যালো, উঠবে এবার রোদ 
রোদের হাতে বর্শা, হ্যালো হ্যালো 
তোমার পায়ের ঘুঙুর শুনতে পেলে 
সমস্ত মেঘ, আঁধার খসে হ্যালো 
সমস্ত মেঘ আঁধার, হ্যালো হ্যালো 
সমস্ত মেঘ, হ্যালো, হ্যালো হ্যালো।

Tuesday, May 6, 2014

Kathopakathan # 17 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
নন্দিনী, তুমি একটুখানি তো জল 
অথচ ভাসাও স্রোতের কলস্বরে।

নন্দিনী- 
তুমিও তো মিহি বাতাস, শুভঙ্কর 
অথচ কি করে কাঁপাও সুখের ঝড়ে?

Kathopakathan # 16 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

ওগো সুন্দরী! মনে আছে কাল তেসরা জুন?
সেকি! ভুলে গেছ? তুমি তো দেখছি সাংঘাতিক!
ভুলে গেলে তিথি প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর?
আজ্ঞে না এটা ঠাট্টা নি বা ইয়ার্কি।
ফিচেল হাওয়ারা যেভাবে সজনে গাছের চুল 
চুলের বিনুনি ঘেঁটে দিয়ে করে মশকরা 
তুমি কি ভাবছো এটাও তেমনি খেলাচ্ছল?

তুমি যা বলছ স্বীকার করছি। ইয়েস স্যার!
বিয়ে আমাদের হয়নি এবং হবেও না।
তাতে কি হয়েছে? মনে মনে তুমি পার্বতী 
তেসরা জুনের বিকেল থেকেই। সেটা তো ঠিক?

তেসরা জুনেই প্রথম উঠল ঘূর্ণিঝড় 
তেসরা জুনেই প্রথম প্রবল বৃষ্টিপাত 
আকাশে আতর ছুঁড়ল প্রথম কদম ফুল।
একটি রুমালে তোমার হাত ও আমার হাত।

আমরা নিকটবর্তী হলাম তেসরা জুন 
তোমার রথের চাকায় ভাঙল হাড়-পাঁজর 
দেয়াল-দালান-দরজা-বিছানা-পত্তরে 
তোমার হাসির বিদ্যুতরেখা দিল আগুন 
আমরা পরস্পরের হলাম তেসরা জুন।

তেসরা জুনেই আমার আকাশে তোমার চাঁদ 
তোমার হাওয়ায় আমি উড়ো চুল তেসরা জুন 

Kathopakathan # 15 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

তরমুজের বাইরেটা সবুজ 
ভিতরটা লাল।
আচ্ছা বলতো, কেন মনে পড়ল কথাটা?
পারলে না?
তোমার সবুজ শাড়িটার দিকে তাকিয়ে।

Kathopakathan # 14 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

নন্দিনী-
দেখ, অনন্তকাল ঝিঝি পোকার মতো 
আমরা কথা বলছি 
অথচ কোনো কথায় শেষ হল না এখনও।
একটা লাল গোলাপের কান্নার গল্প 
শোনাবে বলেছিলে 
কবে বলবে?

শুভঙ্কর-
চলো উঠি। বড্ড গরম এখানে।

নন্দিনী-
দেখ, অনন্তকাল শুকনো বাঁশপাতার মতো 
আমরা ঘুরছি 
অথচ কেউ কাউকে ছুঁতে পারলুম না এখনো।
একটা কালো হরিনকে কোজাগরী উপহার 
দেওয়ার কথা ছিল 
কবে দেবে?

শুভঙ্কর-
চলো উঠি। বড্ড ঝড়ঝাপটা এখানে।

Kathopakathan # 13 from Kathopakathan Vol 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-

তোমার মধ্যে অনন্তকাল বসবাসের ইচ্ছে 
তোমার মধ্যেই জমিজমা ঘরবাড়ি, আপাতত একতলা 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-

একতলা আমার একবিন্দু পছন্দ নয়।
সকাল-সন্ধে চাঁদের সঙ্গে গপ্পোগুজব হবে 
তেমন উঁচু না হলে আবার বাড়ি নাকি?

শুভঙ্কর-

আচ্ছা তাই হবে।
চাঁদের গা ছুঁয়ে বাড়ি,
রহস্য উপন্যাসের মতো ঘোরানো-প্যাঁচানো সিঁড়ি 
বাঁকে বাঁকে সোনালী ফ্রেমে বাঁধানো স্বপ্নদৃশ্য 
শিং-সমেত মায়া-হরিণের মুন্ডু 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-
কাটা হরিণ দেয়ালে ঝুলবে, অসহ্য।
হরিণ থাকবে বনে, বন থাকবে আমাদের 
খাট-পালঙ্কের চারধারে 
খাট-পালঙ্কের নীচে ছোট্ট একটা পাহাড় 
পাহাড়ের পেট চিরে ঝর্ণা 

শুভঙ্কর- 
আচ্ছা তাই হবে।
পাহাড় চিরে ঝর্ণা, ঝর্ণার উপরে কাশ্মিরী কার্পেট 
সিলিং-এ রাজস্থানী-ঝাড় জলের ঝাঁঝরির মত উপুড় করা 
জানলার গায়ে মেঘ, মেঘের গায়ে ফুরফুরে আদ্দির 
পাঞ্জাবি 
পাঞ্জাবির গায়ে লখনৌ-ই চিকনের কাজ 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-
মেঘ রোজ রোজ পাঞ্জাবি পরবে কেন?
এক একদিন পরবে বালুচরি শাড়ি কিংবা 
খাটাও-এর পাতলা প্রিন্ট 
মাথায় বাগান খোঁপা, খোঁপায় হীরের প্রজাপতি 

শুভঙ্কর-
আচ্ছা তাই হবে।
মেঘ সাজবে জরি-পাড় শাড়িতে 
আর তখুনি নহবতখানার সানাই-এ জয়জয়ন্তী 
আরত খুনি অরণ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বুনো জানোয়ারের হাঁক ডাক 
খাদে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে জেগে উঠবে জলপ্রপাত 
শিকারের জন্যে তীর ধনুক, দামামা দুন্দুভি 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-
তুমি এমন ভাবে বলছ 
যেন ভালবাসা মানে সাপে আর নেউলে ভয়াবহ 
একটা যুদ্ধ।
ভয় লাগছে।
অন্য গল্প বল।

Sunday, May 4, 2014

Kathopakathan # 12 from Kathopakathan Vol 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-

কাল বিকেলে
তোমার ঘাড়ে চিবুক রেখে প্রকান্ড 
বাঘ কি খুঁজছিল 
দেখতে পেলে?

নন্দিনী-

জানি জানি,
খুঁজছিল তার সুখের নদীর উৎস 
এবং পারাপারের 
শেষ পারানি।

শুভঙ্কর-

সমস্ত রাত 
নিজের বুকের পাথর খুঁড়ে বইয়েছে 
কাল ক্ষতিকারক 
জলপ্রপাত।

নন্দিনী-

লক্ষ্মী সোনা,
আমি তোমার রৌদ্রছায়ায় সর্বক্ষনই 
সঙ্গে হাঁটি 
সমুদ্রতীর কষ্ট দিলে বিছোই বালির 
শীতলপাটি 
বুকের কাছে নেই তবুও তোমার 
বুকেই বসতবাটি 
ভুল কোরো না।

Saturday, May 3, 2014

Kathopakathan # 11 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

- তুমি আজকাল বড় সিগারেট খাচ্ছ শুভঙ্কর।
- এখুনি ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি।
  কিন্তু তার বদলে?
- বড্ড হ্যাংলা। যেন খাওনি কখনো?
- খেয়েছি।
  কিন্তু আমার খিদের কাছে সে সব নস্যি।
  কিন্তু কলকাতাকে এক খাবলায় চিবিয়ে খেতে পারি আমি।
  আকাশটাকে ওমলেটের মতো চিরে চিরে 
  নক্ষত্রগুলোকে চিনেবাদামের মতো টুকটাক করে 
  পাহাড়গুলোকে পাঁপর ভাজার মতো মরমরিয়ে 
  আর গঙ্গা?
  সে তো এক গেলাস সরবত।
- থাক। খুব বীরপুরুষ।
- সত্যি তাই।
  পৃথিবীর কাছে আমি এই রকমই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ।
  কেবল তোমার কাছে এলেই দুধের বালক
  কেবল তোমার কাছে এলেই ফুটপাথের নুলো ভিখারী 
  এক পয়সা, আধ পয়সা কিংবা এক টুকরো পাউরুটির বেশী 
  আর কিছু ছিনিয়ে নিতে পারি না।
- মিথ্যুক।
- কেন?
- সেদিন আমার সর্বাঙ্গের শাড়ি ধরে টান মারনি?
- হতে পারে।
  ভিখারীদের কি ডাকাত হতে ইচ্ছে করবে না একদিনও?

Friday, May 2, 2014

Kathopakathan # 10 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

- কাল বাড়ি ফিরে কি করলে?
- কাঁদলাম। তুমি?
- লিখলাম।
- কবিতা? কই দেখাও।
- লিখেই কুচিকুচি।
- কেন?
- আমার আনন্দের ভিতরে অনর্গল কথা বলছিল আর্তনাদ 
  আর্তনাদের ভিতরে গুনগুন গলা ভাঁজছিল অদ্ভুত এক শান্তি 
  আর শান্তির ভিতরে সমুদ্রের সাঁই সাঁই ঝড়।
  যে-সব অক্ষর লিখলেই লাল হবার কথা 
  তারা হয়ে যাচ্ছিল সাদা।
  যে সব শব্দ সাদা কাশবন হয়ে দুলবে 
  তাদের মনে হচ্ছিল শুকনো ঝাউপাতার ওড়াউড়ি।
  বুঝলাম সে ভাষা আমার জানা নেই 
  যার আয়নায় নিজের মুখ দেখবে ভালোবাসা।
- তাই বলে ছিঁড়ে ফেললে?
- বাতাস থেকে একটা অট্টহাসি লাফিয়ে উঠে বললে 
  পিদিমের সলতে হয়ে আরো কিছু দিন পুড়ে খাক হ।
  পুড়ে খাক হ।

Kathopakathan # 9 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-

আজ তোমাকে অনেক নামে ডাকতে ইচ্ছে করছে।
ডাকবো?
আজকে তুমি প্রথম শ্রাবণ, সঙ্গে চাঁপার গন্ধ 
মাখবো?

গভীরতর গানের ভিতর খেয়া দেওয়ার নৌকো 
চলছে।
একটু আগে হাসলে যেন আকাশ সোনার আংটি 
গলছে।

এখন তোমায় 'কুরুস কাঠি' এই নামেতে ডাকবো 
শুনছো?
ছিলাম সুতো, তাকে হাজার চৌকো ও গোল নকশায় 
বুনছো।