নন্দিনী-
তোমাকে আজকাল এত রোগা লাগে কেন শুভঙ্কর?
খুব ম্রিয়মান লাগে
যেন ঘন বর্ষাকাল, মেঘের ধূসর ডানা, জল-কোলাহল
ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফেলছে তোমাকে।
ভাঙা কোনো মন্দিরের পুরনো গন্ধের মত লাগে।
অতীতকালের কোনো স্তম্ভে আঁটা শ্যাওলার মত
অতীতে সবুজ ছিলে, এখন শোকের মত হীন।
তোমাকে কি ঘিরে আছে কোন কারাগার?
গরাদের কালো হাত, ঘন বৃক্ষজাল?
অথবা তুমি কি কিছু হারিয়েছ, অত্যন্ত আপন কোনো কিছু?
সন্ধ্যাতারা ডুবে গেলে কোনো কোনো পাখি শুধু কাঁদে।
তোমার সোনার আংটি জলের গহ্বরে ভেসে গেছে?
তোমার গায়ের সেই চাঁপা রং, চমৎকার শোভন প্রচ্ছদ
শুভঙ্কর কোথায় হারালে?
শুভঙ্কর-
নন্দিনী, তুমি তো জানো আমার বাগান পাট নেই,
যেটুকু বাগান ছিল শৈশবের সঙ্গে ঝরে গেছে।
তুমি ফুল ভালোবাসো বলে
তোমাকে ফুলের বৃন্তে মাঙ্গলিক উৎসবের মত লাগে বলে
আমাকে ফুলের খোঁজে যেতে হয় পথ খুঁজে খুঁজে
সিন্ধুনদ, হিন্দুকুশ, হরপ্পার মত দূরান্তরে।
সেই সব পথে বহু ভাঙাচোরা বিমানবন্দর
বহু যুদ্ধ জাহাজের হাড়-গোড়, মেশিনগানের
কঙ্কাল-কবর, রুঢ় কলকব্জা,-কাঠ-কয়লা-খড়।
সেই সব পথে বহু পতাকার সার কিন্তু প্রাণচিহ্ন নেই।
দুরারোগ্য অসুখের শ্বাসকষ্টে বিদীর্ণ বাতাস
এবং পাথরও খুব, বড় বড় ডাকাতের মত পাথর।
যেতে যেতে রক্তপাত হয়।
যেতে যেতে সর্বাঙ্গের উদ্যমে ও অভিলাষে, বাসনায়, বাহুতে, বল্কলে
নীল মরচে পড়ে।
No comments:
Post a Comment