Tuesday, May 27, 2014

Kathopakathan # 25 from Kathopakathan Vol. 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-
হাত-ঘড়িটা কি ছোঁ মেরেছে গাঙচিলে?
শকুন্তলার আংটির মত গিলেছে কি কোনো রাঘব বোয়াল-টোয়াল?
কেন?
আসবার কথা কখন, এখন এলে?
বসে আছি যেন যুগযুগান্ত, ভাঙা মন্দিরে উপুড় শালগ্রাম।
চা খেলাম, খেয়ে সিগারেট, খেয়ে আবার- বেয়ারা, কফি!
আর ঘড়ি দেখা, এবং যে কোনো জুতোর শব্দে চমকে চমকে ওঠা।
মনে হচ্ছিল অনন্তকাল প্রতীক্ষাটারও অন্য নামটা প্রেম।

নন্দিনী-
সরি, সত্যিই! কি করবো বল রাস্তায় যেন মাছি থকথকে ভিড় 
তারপরে লাল মিছিলে মিছিলে লরিতে লরিতে সব রাস্তায় বন্ধ 
তারপরে এই লু হাঁকানো রোদ, কি যে বিচ্ছিরি! জ্বলে-পুড়ে সব খাক, 
আকাশটার কি ব্যামো হল কিছু? আষাঢ় মাসেও মেঘের কলসী ফাঁকা।
মনে হচ্ছিল শতাব্দী কেটে যাবে 
তবু কোনো দিন লেনিন সরণি পারবে না যেতে শেক্সপীয়রের কাছে।
তারপরে জানো কাল সারারাত ঘুমোইনি, শুধু কেঁদে 
কাঁদব যে তারও সুখ কি কপালে আছে?
পাশে বোন শোয়, পিসিমা খাটের নিচে।

শুভঙ্কর-
হঠাৎ কান্না কেন?

নন্দিনী-
তোমার একটা চিঠি সামহাউ পড়েছে বাবার হাতে।
বাবা গম্ভীর। তার মানে আজ কাল বা পরশু ঘটবে বিস্ফোরণ।
পুরে দেওয়া হবে বিধিনিষেধের গোল গন্ডীর ভিতরে হ্যাঁচকা টানে।

শুভঙ্কর-
যা অনিবার্য, দ্রুত ঘটে যাওয়া ভালো।
আজ সকালের কাগজেই লেখা আছে 
ঘন্টায় আশি মাইল দৌড়ে আসছে বৃষ্টি-ঝড়।
বুঝেছি অতঃপর 
পরিতে হইবে সারা গায়ে রণসাজ।
মনে পড়ে? আমি ভিক্টোরিয়ার মাঠে একদিন শীতের সন্ধেবেলায় 
তোমার শরীর ভর্তি আগুনে সেঁক-তাপ নিতে নিতে 
বলিয়াছিলাম, নন্দিনী! মনে রেখো 
ভালবাসা মানে আমরণ এক রক্ত রণাঙ্গন।

No comments:

Post a Comment