Tuesday, May 6, 2014

Kathopakathan # 13 from Kathopakathan Vol 1 by Purnendu Patri

শুভঙ্কর-

তোমার মধ্যে অনন্তকাল বসবাসের ইচ্ছে 
তোমার মধ্যেই জমিজমা ঘরবাড়ি, আপাতত একতলা 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-

একতলা আমার একবিন্দু পছন্দ নয়।
সকাল-সন্ধে চাঁদের সঙ্গে গপ্পোগুজব হবে 
তেমন উঁচু না হলে আবার বাড়ি নাকি?

শুভঙ্কর-

আচ্ছা তাই হবে।
চাঁদের গা ছুঁয়ে বাড়ি,
রহস্য উপন্যাসের মতো ঘোরানো-প্যাঁচানো সিঁড়ি 
বাঁকে বাঁকে সোনালী ফ্রেমে বাঁধানো স্বপ্নদৃশ্য 
শিং-সমেত মায়া-হরিণের মুন্ডু 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-
কাটা হরিণ দেয়ালে ঝুলবে, অসহ্য।
হরিণ থাকবে বনে, বন থাকবে আমাদের 
খাট-পালঙ্কের চারধারে 
খাট-পালঙ্কের নীচে ছোট্ট একটা পাহাড় 
পাহাড়ের পেট চিরে ঝর্ণা 

শুভঙ্কর- 
আচ্ছা তাই হবে।
পাহাড় চিরে ঝর্ণা, ঝর্ণার উপরে কাশ্মিরী কার্পেট 
সিলিং-এ রাজস্থানী-ঝাড় জলের ঝাঁঝরির মত উপুড় করা 
জানলার গায়ে মেঘ, মেঘের গায়ে ফুরফুরে আদ্দির 
পাঞ্জাবি 
পাঞ্জাবির গায়ে লখনৌ-ই চিকনের কাজ 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-
মেঘ রোজ রোজ পাঞ্জাবি পরবে কেন?
এক একদিন পরবে বালুচরি শাড়ি কিংবা 
খাটাও-এর পাতলা প্রিন্ট 
মাথায় বাগান খোঁপা, খোঁপায় হীরের প্রজাপতি 

শুভঙ্কর-
আচ্ছা তাই হবে।
মেঘ সাজবে জরি-পাড় শাড়িতে 
আর তখুনি নহবতখানার সানাই-এ জয়জয়ন্তী 
আরত খুনি অরণ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বুনো জানোয়ারের হাঁক ডাক 
খাদে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে জেগে উঠবে জলপ্রপাত 
শিকারের জন্যে তীর ধনুক, দামামা দুন্দুভি 
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?

নন্দিনী-
তুমি এমন ভাবে বলছ 
যেন ভালবাসা মানে সাপে আর নেউলে ভয়াবহ 
একটা যুদ্ধ।
ভয় লাগছে।
অন্য গল্প বল।

No comments:

Post a Comment