শুভঙ্কর-
তোমার মধ্যে অনন্তকাল বসবাসের ইচ্ছে
তোমার মধ্যেই জমিজমা ঘরবাড়ি, আপাতত একতলা
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?
নন্দিনী-
একতলা আমার একবিন্দু পছন্দ নয়।
সকাল-সন্ধে চাঁদের সঙ্গে গপ্পোগুজব হবে
তেমন উঁচু না হলে আবার বাড়ি নাকি?
শুভঙ্কর-
আচ্ছা তাই হবে।
চাঁদের গা ছুঁয়ে বাড়ি,
রহস্য উপন্যাসের মতো ঘোরানো-প্যাঁচানো সিঁড়ি
বাঁকে বাঁকে সোনালী ফ্রেমে বাঁধানো স্বপ্নদৃশ্য
শিং-সমেত মায়া-হরিণের মুন্ডু
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?
নন্দিনী-
কাটা হরিণ দেয়ালে ঝুলবে, অসহ্য।
হরিণ থাকবে বনে, বন থাকবে আমাদের
খাট-পালঙ্কের চারধারে
খাট-পালঙ্কের নীচে ছোট্ট একটা পাহাড়
পাহাড়ের পেট চিরে ঝর্ণা
শুভঙ্কর-
আচ্ছা তাই হবে।
পাহাড় চিরে ঝর্ণা, ঝর্ণার উপরে কাশ্মিরী কার্পেট
সিলিং-এ রাজস্থানী-ঝাড় জলের ঝাঁঝরির মত উপুড় করা
জানলার গায়ে মেঘ, মেঘের গায়ে ফুরফুরে আদ্দির
পাঞ্জাবি
পাঞ্জাবির গায়ে লখনৌ-ই চিকনের কাজ
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?
নন্দিনী-
মেঘ রোজ রোজ পাঞ্জাবি পরবে কেন?
এক একদিন পরবে বালুচরি শাড়ি কিংবা
খাটাও-এর পাতলা প্রিন্ট
মাথায় বাগান খোঁপা, খোঁপায় হীরের প্রজাপতি
শুভঙ্কর-
আচ্ছা তাই হবে।
মেঘ সাজবে জরি-পাড় শাড়িতে
আর তখুনি নহবতখানার সানাই-এ জয়জয়ন্তী
আরত খুনি অরণ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বুনো জানোয়ারের হাঁক ডাক
খাদে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে জেগে উঠবে জলপ্রপাত
শিকারের জন্যে তীর ধনুক, দামামা দুন্দুভি
হাসছো কেন? বলো হাসছো কেন?
নন্দিনী-
তুমি এমন ভাবে বলছ
যেন ভালবাসা মানে সাপে আর নেউলে ভয়াবহ
একটা যুদ্ধ।
ভয় লাগছে।
অন্য গল্প বল।
No comments:
Post a Comment